বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

অসুস্থ সৌমিত্রকে গল্প শোনানো হবে

বিনোদন ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : কয়েক দিন আগে করোনামুক্ত হয়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জি। তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে ভালোর দিকে যাচ্ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পা ঝুলিয়ে বসানো হয়েছে সৌমিত্রকে। চলেছে ফিজিওথেরাপি। আগামী দিন দুয়েকের মধ্যে কোনো কিছুতে ভর দিয়ে প্রবীণ এই শিল্পীকে হাঁটানোর চেষ্টা করা হবে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে—শুধু তাই নয়, সৌমিত্র চ্যাটার্জিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে, তার মন ভালো রাখার জন্য কিছু গল্প পড়ে শোনানোর কথাও ভাবছেন চিকিৎসকরা। আর এজন্য তার মেয়ে পৌলমী বোসের সাহায্য নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী চিকিৎসা করায় সৌমিত্র সাড়া দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আপাতত নতুন কোনো জটিলতা বা জ্বর আসেনি সৌমিত্রর। কৃত্রিমভাবে অক্সিজেনও দিতে হচ্ছে না তাকে। উচ্চ মাত্রায় স্টেরয়েড প্রয়োগ সৌমিত্রর চিকিৎসায় কার্যকর হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

বেলভিউ হাসপাতালের সিইও জানান, গত বছর গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন সৌমিত্র। এসব বিষয় মাথায় রেখেই চিকিৎসার পদক্ষেপ ঠিক করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ১০ জন ছাড়াও আরো ৬জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।

করোনা সংকটের কারণে দীর্ঘ দিন টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শুটিং বন্ধ ছিল। সতর্কতা মেনে সম্প্রতি শুটিংয়ের অনুমতি মেলে। যথাযথ সুরক্ষা মেনে শুটিংয়ে ফিরেছিলেন সৌমিত্র। নিজেকে নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্রের শুটিং করছিলেন। এর মধ্যে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। গত ৬ অক্টোবর ৮৫ বছর বয়েসি এই শিল্পীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন সৌমিত্র চ্যাটার্জি। চ্যাটার্জি পরিবারের আদি বাড়ি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। সৌমিত্রর দাদার আমল থেকে চ্যাটার্জি পরিবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে বসবাস শুরু করেন। সৌমিত্র পড়াশোনা করেন—হাওড়া জেলা স্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

১৯৫৯ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘অপুর সংসার’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সৌমিত্র। মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। কবি ও খুব উচ্চমানের আবৃত্তিকার হিসেবে তার দারুণ খ্যাতি রয়েছে।

২০১২ সালে ভারতের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেন সৌমিত্র। ২০০৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণ পান তিনি। তাছাড়া ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা তার প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা পড়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো—ফ্রান্সের ‘লেজিয়ঁ দ্য নর’ (২০১৮)।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com